ঢাকা: এবারের ম্যান বুকার পুরস্কার পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড ফ্লানাগান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে থাইল্যান্ড-বার্মা রেলওয়ে নির্মাণের পেক্ষাপট নিয়ে রচিত উপন্যাসের জন্য বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম সম্মানজনক ম্যান বুকার পুরস্কার পেলেন অস্ট্রেলিয়ান এই লেখক।
মঙ্গলবার রাতে লন্ডনের গিল্ডহলে ‘দ্য ন্যারো রোড টু দ্য ডিপ নর্থ’ উপন্যাসের জন্য এ বছরের ম্যান বুকার পুরস্কার জয়ী হিসেবে ফ্ল্যানেগ্যানের নাম ঘোষণা করা হয়।
জুরি বোর্ডের প্রধান এসি গ্রেলিং উপন্যাসটি সম্পর্কে বলেন, এটি একটি স্মরণীয় ভালোবাসার গল্প। সেই সঙ্গে এতে তুলে ধরা হয়েছে মানবকষ্টের অতুলনীয় বর্ণনা।
৫৩ বছর বয়সী ফ্ল্যানেগ্যানকে পুরস্কারের আর্থিক মূল্য ৫০ হাজার পাউন্ড মূল্যমানের এ পুরস্কার তুলে দেন ডাচেস অফ কর্নওয়াল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে উপন্যাসিক ফ্ল্যানেগ্যানের বাবা ছিলেন জাপানি যুদ্ধবন্দী। এ সময় থাইল্যান্ড-বার্মা ‘মৃত্যু রেলওয়েতে’ কাটে তাদের সময়।
“অন্য পাঁচ ভাই-বোনের মতো ‘মৃত্যু রেলওয়ের’ শিশু হিসেবে আমিও বেড়ে উঠি…. একটা সময় আমি বুঝতে পারি আমি যদি লিখতে থাকি তাহলে এই বই আমাকে লিখতে হবে,” ওই প্রেক্ষাপট নিয়ে উপন্যাস রচনা নিয়ে বলেন ফ্ল্যানেগ্যান।
‘দ্য ন্যারো রোড টু দ্য ডিপ নর্থ’ উপন্যাসে তিনি তুলে এনেছেন সেই সব যুদ্ধবন্দীদের কথা, জোর করে যাদের দিয়ে ‘কুখ্যাত’ থাইল্যান্ড-বার্মা রেললাইন নির্মাণ করিয়েছিল জাপানিরা। তার উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ডোরিগো ইভান্স, একজন চিকিৎসক ও অস্ট্রেলিয়ান আর্মির সেনা, আনুমানিক ১৯৪২ সালে যাকে যুদ্ধবন্দী হিসেবে জাভায় নেয়া হয়।যুদ্ধবন্দীদের শিবিরে নৈরাশ্যের মধ্যে ইভান্সকে বিচলিত করে দুই বছর আগে তরুণী চাচীর সঙ্গে প্রেমের স্মৃতি। তার কমান্ডে থাকা লোকজনকে কলেরা ও প্রহার থেকে বাঁচানোর সংগ্রামের মধ্যে একটি চিঠি পান তিনি, যা তার জীবনকে চিরদিনের মতো বদলে দেয়।
এই উপন্যাস লিখতে ১২ বছর সময় লেগেছে ফ্ল্যানেগ্যানের। যেদিন উপন্যাসটি লেখা শেষ হয়, সেদিনই তার বাবা মারা যান। ওই দিনই উপন্যাসের পুরো পাণ্ডুলিপি পাঠানোর কথা জানাতে বাবাকে টেলিফোন করেছিলেন বলে জানান ফ্ল্যানেগ্যান।
ফ্ল্যানেগ্যানের আগের উপন্যাস- ডেথ অব এ রিভার গাইড, দ্য সাউন্ড অব ওয়ান হ্যান্ড ক্লাপিং, ক্লাউডস বুক অফ ফিস, দ্য আননোন টেররিস্ট ও ওয়ান্টিং এ পর্যন্ত ২৬টি দেশে প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৬৯ সাল থেকে ম্যান বুকার পুরস্কার দেওয়া হয়। এর আগে যুক্তরাজ্য, কমনওয়েলথভুক্ত দেশ, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের নাগরিকদের জন্য এই পুরস্কার সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার সব জাতিগোষ্ঠীর জন্য পুরস্কারটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে এতে অনেক লেখক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তারা বলছেন, নিয়ম পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের লেখকদের আধিপত্য বেড়ে যেতে পারে।