বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যেই জঙ্গি কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের ঘটনায় চার্জশিট পেশ করতে গিয়ে তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ আজ সোমবার জানালো এ তথ্য।
চার্জশিটে জামায়েতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ তথা জেএমবি’কে সন্ত্রাসী সংগঠন উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সহিংসতা ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি কট্টরপন্থী শরিয়াভিত্তিক ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
ঘটনার প্রায় ছ’মাসের মাথায় পেশ করা ওই চার্জশিটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যকলাপ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল বলেই জেএমবি জঙ্গিরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ঝাড়খণ্ডে প্রশিক্ষণ শিবির তৈরি করেছিল।
চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে ২১ জনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশি। অভিযুক্তদের মধ্যে ১৩ জন গ্রেফতার হয়েছেন, ৮ জন পলাতক। পলাতক চার বাংলাদেশি হলেন- শেখ রহমতুল্লা, তুলাহ শেখ, কওসর, নাসিরউল্লা ওরফে শাহদত শেখ ওরফে সোহেল ওরফে হাতাকাটা।
এ ছাড়া মোট ৪০০ সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। এনআইএ সূত্র জানাল, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া জঙ্গি কার্যকলাপ, প্রশিক্ষণ, নিয়োগ, নাশকতা এবং ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতকদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থাটি জানিয়েছে।
২০১৪ সালের ২ অক্টোবর কলকাতার অদূরে বর্ধমান শহরের খাগড়াগড়ের একটি বাড়িতে ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)-র বিস্ফোরণ হয়। তাতে মারা যায় শাকিল গাজি এবং করিম শেখ নামে দুই ব্যক্তি।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ওই বছরের ৯ অক্টোবর ঘটনার তদন্ত ভার নেয় এনআইএ। পরে তারা তদন্তের জন্য বাংলাদেশেও সফর করেন।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও বর্ধমানে ওই ঘটনাস্থল ও ওই জেলার একটি মাদ্রাসা, যেখানে জঙ্গি কার্যকলাপ চালানো হতো বলে অভিযোগ, তা পরিদর্শন করেন।
এনআইএ-র তদন্তে ক্রমশ উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা জঙ্গি নেটওয়ার্কের কথা।
বর্ধমানের পাশাপাশি নদিয়া, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন গ্রামে মাদ্রাসার আড়ালে জঙ্গি প্রশিক্ষণের কথাও প্রকাশ্যে আসে। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, আসাম ও ঝাড়খণ্ডেও এর শেকড় খুঁজে পান তদন্তকারীরা। বাংলাট্রিবিউন প্রতিবেদন।